আপডেট
Home / টিপস / দেখুন কিছু খারাপ স্কিন কেয়ার পরামর্শ, যেগুলি থেকে সজাগ থাকা উচিত

দেখুন কিছু খারাপ স্কিন কেয়ার পরামর্শ, যেগুলি থেকে সজাগ থাকা উচিত

স্বাস্থ্য ভাল রাখার পাশাপাশি দরকার সৌন্দর্য। তাই, বিশেষজ্ঞরা আমাদের স্কিনকেয়ারের জন্য প্রচুর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ত্বকের সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করা যায় বা স্বাস্থ্যকর ত্বক কীভাবে পাওয়া যায় তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়। আমাদের জন্য পরামর্শের কোনও ঘাটতি রাখেন না তাঁরা। ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে অনেকেই আছেন, যারা আমাদের জন্য নিজস্ব কৌশল, টিপস্ এবং পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমরা কেউ কেউ এইসব উপায় গ্রহণও করে থাকি।
দেখুন কিছু খারাপ স্কিন কেয়ার পরামর্শ, যেগুলি থেকে সজাগ থাকা উচিত

আপনি কীভাবে বুঝবেন যে, কোন স্কিনকেয়ার পরামর্শটি সত্য এবং কোনটি মিথ্যা? এ নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। এই বিষয়ে আমরা আপনাকে সহায়তা করব। আজ, আমরা আপনার জন্য সবচেয়ে খারাপ স্কিনকেয়ার পরামর্শগুলি তালিকাভুক্ত করেছি, যা আপনার কাছে পরিষ্কার করে দেবে কোনটা ভাল পরামর্শ আর কোনটা খারাপ।

১) আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, সারাদিনে জল দিয়ে বহুবার ত্বক ধুতে থাকুন ত্বক তৈলাক্ত হলে সতেজ, সৌন্দর্য ও মাধুর্যতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু, যখন আপনি আপনার তৈলাক্ত ত্বক নিয়ন্ত্রণের উপায় সন্ধান করবেন, তখন অনেকেই আপনাকে সতেজ চেহারা পাওয়ার জন্য সারাদিন জল বা বিভিন্ন ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেবে। তবে, আপনি এই পরামর্শটি গ্রহণ করবেন না। কারণ, ঘন ঘন মুখ ধোয়ার ফলে মুখের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলস্বরূপ আমাদের ত্বক ভারসাম্য বজায় রাখতে আরও তেল উৎপাদন করে, যা পরিস্থিতি বেশ খারাপ করে তোলে।

২) ব্রণ হলে আপনার ত্বককে ময়শ্চারাইজ করবেন না ত্বক হাইড্রেটেড থাকা ভাল। ত্বক শুষ্ক হলে ত্বকের প্রদাহ এবং জ্বালা আরও বেশি হয়। সুতরাং, যতক্ষণ না আপনার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আপনাকে ময়েশ্চরাইজার ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন, ততক্ষণ আপনি এটি বন্ধ করবেন না। তবে, আপনাকে নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজারের সন্ধান করতে হবে, যা আপনার ত্বকের ছিদ্রগুলিকে ব্লক করবে না এবং আপনার ব্রণর উপর প্রভাব ফেলবে না।
দেখুন কিছু খারাপ স্কিন কেয়ার পরামর্শ, যেগুলি থেকে সজাগ থাকা উচিতl

৩) ব্রণ(জিট)র ওপর আঙুল দিয়ে আঘাত করলে তা ঠিক হয়ে যায় এটি একটি পুরানো ধারণা যে, মুখে কোনও কিছু বেরোলে তার ওপর আঙুল দিয়ে আঘাত করলে তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু, এটা ভুল ধারণা। কারণ, এরকম করলে ত্বকে জ্বালা, সংক্রমণ এবং দাগ তৈরি হতে পারে। এর চেয়ে সবথেকে ভাল উপায় হল, ত্বক পরিষ্কার, হাইড্রেটেড রাখা এবং তাকে ব্রণকে না করা।

৪) অফিসের ভিতরে সারাদিন থাকলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার দরকার নেই না, আপনার একেবারেই এটি করা উচিত নয়। আপনি অফিসে থাকুন বা গাড়িতে, যেকোনও জায়গায় জানালা রয়েছে, যেখান থেকে সূর্যের আলো প্রবেশ করে। জানলার কাঁচ সূর্যের ইউভিএ রশ্মি থেকে বাঁচায় না। সূর্যের ইউভিএ রশ্মি আপনার ত্বকে প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং, আপনার উচিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।

৫) টুথপেষ্ট হল ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়ার চূড়ান্ত সমাধান ব্রণর উপরে টুথপেস্ট লাগান, রাতারাতি এটি ভাল হয়ে যাবে। এই পরামর্শটি আমরা অনেকেই পেয়েছি এবং অনুসরণও করেছি। কিন্তু, আমরা এটি করার পরামর্শ দেব না। যদিও, আমরা একমত যে, টুথপেস্টে অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা খুব উপকারি, তবে টুথপেস্টে উপস্থিত অন্যান্য উপাদানগুলি আপনার ত্বকের অনেক ক্ষতি করতে পারে।

৬) প্রাপ্তবয়স্ক ত্বকের ব্রণ অল্পবয়সী ত্বকের ব্রণর মতো একই পদ্ধতিতে মোকাবিলা করতে পারে অল্পবয়সীদের ত্বক, প্রাপ্তবয়স্কদের ত্বকের চেয়ে অনেক বেশি রুক্ষতা সহ্য করতে পারে। অল্পবয়সী ত্বকের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের ত্বক বেশ শুষ্ক হয় এবং সহজেই ডিহাইড্রেট হয়। চিকিৎসকরা অল্পবয়সী ত্বকের জন্য যেসব পরামর্শ দেয় তা প্রাপ্তবয়স্ক ত্বকের জন্য শুষ্ক এবং জ্বালাময় হতে পারে। তাই এর পরিবর্তে, ব্রণর সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য ত্বকে ক্লিনজার ব্যবহার করুন, যা ত্বককে কোমল এবং হাইড্রেট করে।

দেখুন কিছু খারাপ স্কিন কেয়ার পরামর্শ, যেগুলি থেকে সজাগ থাকা উচিতj

৭) চকোলেট খাওয়া ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ অনেকের মতে, অতিরিক্ত চকোলেট খাওয়ার ফলে ব্রণ হতে পারে। কিন্তু, চকোলেটের এতটাও ক্ষমতা থাকে না। আপনার অস্বাস্থ্যকর ডায়েটই আপনার ব্রণ হওয়ার কারণ হতে পারে।

৮)যদি আপনার ত্বকের বর্ণ চাপা হয়, তবে আপনার সানস্ক্রিনের দরকার নেই ত্বকের বর্ণ যেমনই হোক না কেন, সর্বক্ষেত্রেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। ত্বকের বর্ণ চাপা হলে সূর্যের তাপে ত্বকে পুড়তে বা ত্বকের ক্ষতির লক্ষণ দেখা দিতে হয়ত বেশি সময় নিতে পারে, কিন্তু ত্বক সূর্য রশ্মির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সুতরাং, সানস্ক্রিন লাগান।

৯) আপনি যদি এখনও সানস্ক্রিন ব্যবহার না করে থাকেন, তবে এখন এটি ব্যবহার করার কোনও উপকারিতা নেই ত্বকের যত্ন নিতে আমরা প্রত্যেকেই পছন্দ করি। যদি আপনি এর আগে কখনও সানস্ক্রিন ব্যবহার না করে থাকেন, তবে আপনি এখনই ব্যবহার করা শুরু করুন এবং আপনার ত্বককে আরও ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করুন।

১০) বলিরেখা থেকে মুক্তি পেতে অ্যান্টি-এজিং ক্রিম ব্যবহার করুন এমন স্কিনকেয়ার পণ্য এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি, যা ইতিমধ্যে ত্বকের বলিরেখা থেকে মুক্তি দিতে পারে। বাজারে যে অ্যান্টি-এজিং প্রোডাক্টগুলি দেখা যায়, যেগুলি বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি করে, তা আসলে সাময়িকভাবে ত্বককে হাইড্রেট করে সতেজ ও অল্পবয়সী দেখায়।

১১)৩০ বছর বয়সের পর ব্রণ হবে না ব্রণ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কোনও নির্ধারিত বয়স নেই। এটি আপনার ৩০, ৪০ এমনকি ৫০ বছর বয়সেও হতে পারে। সুতরাং, আপনি যদি মনে করেন ৩০ বছর বয়সের পর আপনি ব্রণ থেকে নিরাপদ, তাহলে তা আবার চিন্তা করুন। ব্রণ থেকে দূরে থাকতে আপনি যা করতে পারেন তা হল, ত্বককে স্বাস্থ্যকর এবং হাইড্রেটেড রাখা। যাতে ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

১২) স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতে আপনার প্রয়োজন কসমেটিকস্ এটি একটি খুব দৃঢ় ধারণা যে, স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতে রুটিন অনুযায়ী আপনার ত্বকে কিছু কসমেটিকস্ ব্যবহার করা উচিত। আসল সত্য হল, আপনার ত্বক আপনার অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের প্রতিফলন ঘটায়। আপনি যদি স্বাস্থ্যকরভাবে খান, প্রচুর পরিমাণে জল পান করেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখেন তবেই আপনার ত্বক স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্ট থাকবে।

১৩) ট্যান পড়া আপনার ত্বকের পক্ষে ভাল আমরা মনে করি, ব্রণর লালচেভাব বা জ্বালা কমাতে ত্বকের ট্যান সাহায্য করে। কিন্তু, এটা বিপরীত প্রভাব ফেলে এবং ব্রণর সমস্যা আরও জটিল করে তোলে। তার সঙ্গে, ট্যান পড়ার পাশাপাশি ঘাম হলে আপনার ত্বকের ছিদ্রগুলি ব্লক হয়ে যেতে পারে এবং ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

১৪) উচ্চতর এসপিএফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ত্বকের পক্ষে ভাল উচ্চতর এসপিএফ আরও ভালভাবে আপনার ত্বককে সুরক্ষিত করে, তবে এর অর্থ এই নয় যে এটি ত্বকের সুরক্ষাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর এবং সাঁতারের পরে অবশ্যই সানস্ক্রিন পুনরায় ব্যবহার করা উচিত

১৫) যত বেশি এক্সফোলিয়েট করবেন তত বেশি আপনার ত্বক ভাল হবে ত্বকে এক্সফোলিয়েটিং করা ত্বকের মৃত কোষগুলি থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে। মৃত কোষগুলি ত্বকের ছিদ্র আটকে রাখতে পারে এবং ত্বকে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অবশ্যই সেগুলি থেকে মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। তবে, ত্বককে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েট করা ত্বকের ক্ষতি করে। সুতরাং, সপ্তাহে তিনবারের চেয়ে বেশি এক্সফোলিয়েট করবেন না।

 

১৬) ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে আপনার ডায়েটের কিছুই করার নেই আমরা সাধারণত ব্রণ হওয়ার কারণ হিসেবে বাইরের বিভিন্ন কারণকেই দোষারোপ করি। কিন্তু, আমাদের ডায়েটের দিকে কখনও খেয়াল রাখি না এবং আপনি খেয়াল করবেন, অনেকেই বলেন যে আমরা কী খাই তার উপর ব্রণ হওয়া নির্ভর করে না। তবে, সতর্কতা অবলম্বন করুন, আপনার ডায়েট আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যের উপর বিশাল প্রভাব ফেলে। আপনি যদি খুব তৈলাক্ত বা হাই সুগারযুক্ত খাবার খান তাহলে আপনার ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সুতরাং, আপনার মনের মতো ত্বক পেতে ভিটামিন এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার খান। চুল ও ত্বক সুন্দর রাখতে অবশ্যই ব্যবহার করুন বেকিং সোডা উপরিউক্ত কারণগুলি ত্বকের যত্নের পরামর্শগুলির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরামর্শ, যেগুলিতে আপনার মনোযোগ দেওয়া উচিত নয়। আপনাকে কি এর মধ্যে কোনও পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল? আপনি কি সেটি অনুসরণ করেছেন? যদি করে থাকেন তবে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? নীচের মন্তব্য বিভাগে আমাদের জানান।

About tipsbox

Check Also

একাধিক শারীরিক সমস্যা সমাধানে পটল খান নিয়মিত

একাধিক শারীরিক সমস্যা সমাধানে পটল খান নিয়মিত

বাজারে এখন পটলের ছড়াছড়ি! বাঙালির হেঁসেলে পটল ভাজা থেকে পটলের দম বা দোলমা— কত কী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *